বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন
শপথ না হলে ঈদের শহর হবে তালাবদ্ধ!
অনলাইন ডেস্ক
আসন্ন কোরবানির ঈদে রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।
শনিবার (২৪ মে) দুপুরে নগর ভবনের সামনে চলমান আন্দোলনের সময় মুঠোফোনে আন্দোলনকারী কর্মীদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা দেন তিনি। তার সমর্থক ও ডিএসসিসি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা তাকে ‘জনতার মেয়র’ দাবি করে ওইদিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার কাকরাইল মোড়ে যমুনা ফ্রন্টে অবস্থান তুলে নিয়ে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেধে দিয়েছিলো তারা। আল্টিমেটামের সময় শেষ হলেও কোনো উদ্যোগ না আসায় শনিবার সকালে নগর ভবনের প্রধান ফটকসহ সব প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। এর ফলে করপোরেশনের জরুরি সেবাগ্রহীতারা ব্যর্থ মনোরথে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এদিন, নগর ভবনের নিচতলায় ডিএসসিসির শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন ঢাকাবাসীর সমন্বয়কারী সাবেক সচিব মশিউর রহমানের মোবাইলে ফোনে যুক্ত হন ইশরাক। সেখান থেকেই তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
মুঠোফোন বার্তায় ইশরাক বলেন, “আমরা সরকারকে সময় দিয়েছিলাম, কিন্তু শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ হয়নি। তাই আজ আরও একটি দিন সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে যার যার দায়িত্ব আছে, তা যেন যথাযথভাবে পালন করেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা একে অপরের পাশে থাকলে কোনো অপশক্তি আমাদের পরাজিত করতে পারবে না। আপনারা যে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে আছেন, আশা করছি এর দ্রুত সমাধান হবে।”
ইশরাক কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বলেন, “ঈদের পর শহর যেন বসবাসযোগ্য থাকে, সে দায়িত্ব আমাদের সবার। সরকারের ব্যর্থতায় নগরবাসী যেন কষ্ট না পায়, সেদিকে খেয়াল রেখে সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। আন্দোলনের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে আমি আশাবাদী।”
এই সময় ঢাকাবাসী’র সমন্বয়কারী মশিউর রহমান বলেন, “সরকার এখনো জনতার মেয়র ইশরাক হোসেনের শপথের প্রক্রিয়া শুরু করেনি। ফলে আজও আমরা নগর ভবনে আন্দোলন করছি। সরকার আজকের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে এর দায় তাদেরই নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অনেকে ভুলে গেছেন। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেমকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুদক। বসের অনুমতি ছাড়া একজন এপিএস দুর্নীতি করতে পারে না। একদিন হয়তো দেখা যাবে উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে দুদক।”
শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বাবু বলেন, “আদালতের রায়ের পরও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এখনো জনতার মেয়রের শপথের উদ্যোগ নেয়নি। তাই আজ আমরা মেয়রের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।”
এদিকে আজও ডিএসসিসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নগর ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি। ভবনের সব ফটকে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। তবে কোরবানির ঈদকে ঘিরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপকরণ বহনকারী ট্রাকগুলো প্রবেশ করেছে। কিছু কর্মকর্তা ভবনের নিচতলায় জরুরি পরিচালনা কক্ষে অবস্থান নিয়ে জরুরি ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করছেন।
ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান গণমাধ্যমকে জানান, “গত কয়েক দিনের মতো আজও নগর ভবন তালাবদ্ধ। এতে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।”
শনিবার দুপুরে নগর ভবনে বাবার মৃত্যু সনদের জন্য আসা লহ্মীবাজারের কামরুল ইসলাম বলেন, “গত সপ্তাহে তিনদিন এসেও কিছু করতে পারিনি। আজ ভেবেছিলাম ভবন খোলা থাকবে, কিন্তু আজও বন্ধ। বাবার সম্পত্তি বণ্টনের জন্য বিদেশফেরত ভাইসহ সবাই একত্র হয়েছি, কিন্তু এখন অপেক্ষা ছাড়া কোনো উপায় নেই।”
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে থেকে ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে ইশরাক সমর্থক ও বিএনপি নেতাকর্মীরা নগর ভবনের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।